1. forhad.one@gmail.com : Forhad Shikder : Forhad Shikder
  2. s.m.amanurrahman@gmail.com : pD97wRq9D9 :
করোনার গ্রাফ ফের ঊর্ধ্বমুখী - Top News
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

করোনার গ্রাফ ফের ঊর্ধ্বমুখী

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৩১ সময়

বিশ্বে করোনা মহামারী দেখা দেয়ার ৯ মাস পেরিয়ে গেছে ইতোমধ্যে। কিন্তু এখনো সংক্রমণের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৬০১ জনে।

ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বার বার হোঁচট খাচ্ছে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো। অনেক দেশে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও কিছুদিন পর আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে সংক্রমণের গতি। বিশেষ করে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ইতালি, জার্মানী, ফ্রান্স, গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এদিকে করোনা শনাক্তের হিসেবে বিশ্বে ৩ নম্বরে থাকা ভারত গত কয়েকদিনে দৈনিক সংক্রমণের বিচারে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। অন্যদিকে বিশ্বের একপ্রান্তে সংক্রমণের গতি নিম্নমুখি হলেও অপরপ্রান্তে উর্ধ্বগতি রয়েছে। এমতাবস্থায় বিশ্বের বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে চাঙা করতে জীবনযাত্রায় কিছুটা শিথিলতা অরোপ করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও সংক্রমণের হার কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। এমনকি কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৪৯ হাজার ৪২৬ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৯ জন। এর মধ্যে সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক কোটি ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭০ জন।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির সবগুলো অঙ্গরাজ্যেই হানা দিয়েছে করোনা। দেশটিতে প্রতিদিনই গড়ে ৫০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সংক্রমণে এগিয়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, ভারত, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পেরু, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, চিলি এবং স্পেন।

আক্রান্ত ও মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারে-কাছে নেই কোনো দেশ। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬ লাখ ১২ হাজার ২৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭১৬ জন।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ২৩৫ জন। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬৫৪ জন।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ লাখ ১ হাজার ৬০৪। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫১ হাজার ৯২৫ জন।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৫ হাজার ৭৪০ জন।

সংক্রমণে ৫ম অবস্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৯৮২ জনের।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব মতে, প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে। বিশ্বে এ পর্যন্ত যত কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে, তার ২৮ শতাংশই এসব দেশের। আর বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৩০ শতাংশও ঘটেছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে। করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তা এক বছরে ইনফ্লুয়েঞ্জায় মৃত্যুর সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে চীনের উহান শহরে নতুন ধরনের এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মানবদেহে ধরা পড়ে; খুব দ্রুত বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। পরে এ ভাইরাসের নাম দেয়া হয় নভেল বা নতুন করোনা ভাইরাস। আর এ ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগের নাম দেয়া হয় কোভিড-১৯।

চীনে প্রথম মৃত্যুর দুদিন পর ১৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে প্রথম রোগী ধরা পড়ার পর জানা যায়, চীনের রাষ্ট্রীয় সীমানা পেরিয়ে গেছে এই ভাইরাস। তারপর হু হু করে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা, দেড় মাসের মধ্যে এন্টার্কটিকা বাদে সব মহাদেশেই ধরা পড়ে রোগী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তখন এই পরিস্থিতিকে মহামারী আখ্যায়িত করে।

কঠোর লকডাউনে চীন তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও ততদিনে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে রাশিয়ায় ব্যাপক মাত্রা পায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।

প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর চার মাসের মাথায় ১ এপ্রিল বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ায়। এর পরের সাত সপ্তাহে আরো ৪০ লাখ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় ২১ মে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এরপর পাঁচ সপ্তাহের মাথায় ২৮ জুন সেই সংখ্যা কোটিতে পৌঁছায়। তারপর আরো এক কোটি রোগী শনাক্তে সময় লেগেছে ৪৩ দিন।

অনেক দেশে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ঘাটতি থাকায় এবং কোনো কোনো দেশ হাসপাতালের বাইরে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হিসাবের মধ্যে না আনায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

দেশে নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার এখনো ২০ শতাংশের উপরে: বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা এখন প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯৫ জন। এই সময়ের মধ্যে কোভিড-১৯ রোগে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে সব মিলিয়ে করোনায় মোট শনাক্ত হল এ পর্যন্ত ২ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৪ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৬৯৪ জনে।

২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৫২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন শনাক্তের সংখ্যা পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ২০. ৭২ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৯টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ২০. ৪৬।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে, সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৪১ জন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ জন।

প্রতিবেদন শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Top News
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com