1. forhad.one@gmail.com : Forhad Shikder : Forhad Shikder
  2. s.m.amanurrahman@gmail.com : pD97wRq9D9 :
প্রদীপ-লিয়াকতের রিমান্ড কবে? - Top News
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১০:১০ পূর্বাহ্ন

প্রদীপ-লিয়াকতের রিমান্ড কবে?

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৩৭ সময়

বহুল আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলালকে এখনো রিমান্ডে নেয়া হয়নি। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করার এতদিন পরও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু না করায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কারো কারো অভিযোগ আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এমনটা ঘটছে। সাধারণত হত্যা মামলার আসামি হয়ে কোনো সাধারণ মানুষ গ্রেফতার হওয়ার পরের দিনই রিমান্ডে নিয়ে জেরা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে চাঞ্চল্যকর সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশ্যই পুলিশ কর্মকর্তাসহ সব আসামিকে রিমান্ডে আনা হবে। কৌশলগত কারণে প্রথমে চার পুলিশ সদস্যসহ সাত আসামিকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তাদের দেয়া তথ্য প্রধান অভিযুক্ত তিন আসামির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও প্রথমে পুলিশের মামলার বাদী এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত বর্তমানে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন। সেখানে গিয়েই তাদের বক্তব্য নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। সোমবার কারাগেটে তাদের কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের দল।

অন্যদিকে টেকনাফের মেরিন ড্রাইফ সড়কের যে পুলিশ চেকপোস্টে সাবেক সেনা কমর্কর্তা সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার করা হয়, সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুলল্লাহ আল মামুন। এলাকাটি পরিদর্শনের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন র‌্যাব প্রধান।

আলোচিত এ হত্যা মামলায় নানা নাটকীয়তা শেষে গত ৬ আগস্ট রাতে টেকনাফ থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলি ও পুলিশের মামলার বাদী এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতসহ সাত আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন। এ দিন দুপুরে ওসি প্রদীপকে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে কক্সবাজারে নেয়া হয়। অপর ছয় আসামি আদালতে আত্মসমর্পন করেন।

১১ দিন আগে সব আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করা হলেও সাতজনকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম। সিনহা হত্যার কারণ কি, কার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড, কোন প্রেক্ষাপটে গুলি করা হলো, সিনহা তার অস্ত্র আদৌও তাক করেছিল কিনা, কেন প্রথমে ডাকাত নাটক সাজানো হয়েছিল- এমন সব প্রশ্ন আসামিদের করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের জেরায় তারা অনেক তথ্য দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

তবে এতদিন পরেও প্রধান আসামি ওসি প্রদীপ, সিনহাকে গুলি করা পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলালকে রিমান্ডে না নেয়ার মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ নানা প্রশ্ন তুলে বিচার নিয়েও সন্দেহ পোষণ করছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সব আসামিকেই পর্যায়ক্রমে রিমান্ডে নেয়া হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার সুবিধামতো প্রধান অভিযুক্তদের কারাগার থেকে রিমান্ডে নিয়ে জেরা করবেন।

সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের করা মামলার প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও ২ নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে। এ দু’জন ছাড়া মামলায় আরো সাত পুলিশ সদস্যকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। পরে ওই মামলায় তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব আরো তিনজনকে আসামি করে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে। মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াছ- এই তিন আসামি ঘটনার পর পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী ও স্থানীয়ভাবে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। আলোচিত এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা। টুটুল ও মোস্তফা পলাতক রয়েছেন।

কারাগেটে প্রদীপসহ তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি: মেজর (অব.) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কারাফটকে এনে জেল কোড অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাদের কাছে নানা প্রশ্ন জানতে চান তদন্ত দলের সদস্যরা। কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মোকাম্মেল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার অপর আসামিদের সাক্ষ্য নিতে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, কক্সবাজারের জেল সুপার মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন, সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক সিনিয়র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তদন্ত কমিটি হতে এ বিষয়ে পত্র দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্ম সচিব) মো. মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের বেঁধে দেয়া সময় আগামী ২৩ আগস্ট রবিবারের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেয়ার টার্গেট নিয়ে তদন্ত কমিটি পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

র‌্যাব প্রধানের ঘটনাস্থল পরিদর্শন: সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এলিট ফোর্স র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর এলাকায় পৌঁছেন র‌্যাবের ডিজি। এরপর এপিবিএন পুলিশের চেকপোস্ট ঘুরে দেখেন।

স্থানীয়রা জানান, পরিদর্শনকালে সিনহার গাড়ি কোন পজিশন ছিল সেটি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থলসহ এলাকার আশপাশ ঘুরে দেখেন র‌্যাব প্রধান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম, আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ও মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ, র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ইউং কমান্ডার আজিম আহমেদ এবং সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।

দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন শিপ্রা: ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে পোস্টকারী দুই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন শিপ্রা দেবনাথ। নিহত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদের সহযোগী ও রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ নিজেই গতকাল একাধিক গণমাধ্যমে কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর রাতে এসে আমাদের কটেজ থেকে পুলিশ আমাদের দুটি মনিটর, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ক্যামেরা, লেন্স, তিনটি হার্ডড্রাইভ এবং আমাদের ফোন ডিভাইস সব নিয়ে যায়। জব্দ তালিকায় যার কোনোটির কোনো উল্লেখ নেই। জানি না, এখন কীভাবে বা কার কাছে ফেরত চাইব।

শিপ্রা বলেছেন, ‘আমাদের পার্সোনাল প্রোফাইল ও ডিভাইস থেকে বিভিন্ন ছবি চুরি করে কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের দায়িত্বশীল অফিসাররাই ফেসবুক ও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। আমার ব্যক্তি জীবনকে যারা অসহনীয় করে তুলেছেন বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তৈরির মাধ্যমে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আমি তথ্যপ্রযুক্তির ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। একই সঙ্গে সিনহা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন শিপ্রা।

প্রতিবেদন শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Top News
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com