1. forhad.one@gmail.com : Forhad Shikder : Forhad Shikder
  2. s.m.amanurrahman@gmail.com : pD97wRq9D9 :
স্বীকারোক্তিতে প্রধান আসামিদের ‘হ্যাঁ-না’ - Top News
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

স্বীকারোক্তিতে প্রধান আসামিদের ‘হ্যাঁ-না’

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৩ সময়

সেনাবাহিনীর অপসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের আলোচিত মামলার প্রধান তিন আসামি র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এখনো স্পষ্ট করে অপরাধ স্বীকার করছেন না। দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে থাকা টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাস, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত এখনো বলছেন বিনা অপরাধে সিনহাকে গুলি করা হয়েছে। আবার কখনো বলছেন ঘটনার সময় মাথা ঠিক ছিল না। তাদের বক্তব্যে চরম অসঙ্গতি। তাদের রিমান্ড শেষ হচ্ছে আজ। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন কি না এ নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

দেশজুড়ে তোলপাড় করা সিনহা হত্যা মামলায় র‌্যাবের হাতে রিমান্ডে থাকা দুই এপিবিএন (আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) সদস্য এএসআই শাহজাহান ও কনস্টেবল রাজিব আদালতে ১৬৪ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজার আদালতে বিচারকের খাস কামড়ায় অপরাধ স্বীকার করেন তারা। পরে তাদের কারগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় এ মামলার প্রথম আসামি হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন এবিপিএন সদস্য কনস্টেবল আবদুল্লাহ।

জানা যায়, নিজের অপরাধ স্বীকার করে আব্দুল্লাহ আদালতকে জানান, ‘ঘটনার রাতে হঠাৎ করে তাদের চেকপোস্টের নিয়ন্ত্রণ নেন টেকনাফের বাহাড়ছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলাল। তাদের দেখে কিছুটা অস্থির মনে হচ্ছিল এবং যেন কিছু শিকারের জন্য সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন লিয়াকত’। ঘটনার সময় ঘটনাস্থল শামলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্বরত ছিলেন এই তিন এপিবিএন সদস্য।

এদিকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১২ পুলিশের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার কক্সবাজার আদালতে আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া নিহত সিনহার সহযোগী শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলায় দুটি জব্দ তালিকা তৈরি ও একটির সঙ্গে অপরটির মিল না থাকার বিষয়ে আদালতে ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন রামু থানার ওসি আবুল খায়ের।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, আলোচিত এ মামলায় যাতে কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি না থাকে, সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কে কী কারণে সিনহাকে গুলির ঘটনা ঘটাল, তা নিশ্চিত হতে আসামি ও সাক্ষীদের নানা কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। প্রধান তিন আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী ও নন্দদুলালসহ অপর আসামিদের ১১ দিনের রিমান্ড আজ শুক্রবার শেষ হচ্ছে। প্রধান আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দেবেন কিনা সেটা নিশ্চিত নয়। সেক্ষেত্রে তাদের ফের রিমান্ডে আনা আনা হবে কিনা সেটি আলোচনা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট র‌্যাব কর্মকর্তারা।

সূত্রমতে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে প্রদীপ ও লিয়াকতরা কখনো দায় স্বীকার করলেও ফের বলছেন ঘটনার সময় মাথা ঠিক ছিল না। কখনো লিযাকত ও প্রদীপ একে ওপর ঘটনার দায় চাপাচ্ছেন। আবার কখনো তিন সোর্সের ডাকাত সন্দেহের ভুল তথ্য দেয়ার দাবি করা হচ্ছে। তবে তদন্তকারীরা ইতোমধ্যেই ঘটনার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ হাতে পেয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানেও লিয়াকত ও প্রদীপদের দাবি করা তথ্য টিকছে না।

সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাটি তাৎক্ষণিক নাকি পরিকল্পিত তাও শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে এটি ইচ্ছাকৃত বলে প্রমাণ মিলছে। যদিও এখনো এই মামলার আসামিরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। গুলির কারণ নিয়েও একাধিক ভাষ্য দিয়েছেন।

জবানবন্দি শেষে কারাগারে ২ এপিবিএন সদস্য: সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) আরো দুই সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে আলোচিত এই মামলায় সংস্থাটির তিন সদস্যই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে আসামি এএসআই শাহজাহান ও কনস্টেবল রাজীবকে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করা হয়। দুপুর দেড়টা থেকে বিচারক নিজ খাস কামরায় দুই আসামির জবানবন্দি গ্রহণ শুরু করেন।

বিকেলে আদালতের একজন পুলিশ পরিদর্শক গণমাধ্যমকে বলেন, ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে দুই আসামি জবানবন্দি শেষ করে বের হন। চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা জবানবন্দি দেন। পরে আসামিদের আদালত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। আদালত পুলিশ শেষ বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয় বলে জানান।

এর আগে বুধবার রাতে এই হত্যা মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে জবানবন্দি দেন এপিবিএন সদস্য কনস্টেবল মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ তার খাস কামরায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আদালতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আসামিরা জবানবন্দিতে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। কখন, কীভাবে ঘটনা ঘটেছে তারও বর্ণনা দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে কিছু জানানো হয়নি।

প্রদীপসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আরো একটি হত্যা মামলা: এদিকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১২ পুলিশের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিনের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন টেকনাফ থানা হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মৃত আব্দুল জলিলের স্ত্রী সানোয়ারা বেগম।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর তার স্বামী আব্দুল জলিলকে কক্সবাজার শহরের আদালতপাড়া থেকে আটক করে ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া। পরে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউরের মাধ্যমে তাকে টেকনাফ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ক্রসফায়ার থেকে বাঁচাতে ওসি প্রদীপ গ্রেফতার আব্দুল জলিলের স্ত্রী সানোয়ারা বেগমের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে সানোয়ারা বেগম স্বামীকে বাঁচাতে প্রদীপকে পাঁচ লাখ টাকা দেন বলে এজাহারে জানানো হয়।

এক পর্যায়ে দীর্ঘ আট মাস পর চলতি বছরের ৭ জুলাই জলিল ক্রসফায়ারে নিহত হন। এ ঘটনায় স্বামীর বিচার চেয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মসিউরকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সানোয়ারা বেগম।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই আরিফুর রহমান, সুজিত চন্দ দে, ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া, এসআই অরুণ কুমার চাকমা, এসআই নাজিম উদ্দিন, এসআই নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, এএসআই রাম চন্দ দাস, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও দফাদার আমিনুল হক।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম জানান, শুনানি শেষে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা তা জানানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এরআগে, ১৮ আগস্ট সাবেক ওসি প্রদীপসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অপর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার এলাকার সুলতান আহমদের স্ত্রী গোল চেহের। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ছেলে হত্যার অভিযোগ আনেন গোল চেহের।

শিপ্রার মামলায় জব্দ তালিকায় ভুল, ক্ষমা চাইলেন রামুর ওসি: মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ নিহতের ঘটনার পর তার সহযোগী শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলায় দুটি জব্দ তালিকা তৈরি ও একটির সঙ্গে অপরটির মিল না থাকার বিষয়ে আদালতে ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন রামু থানার ওসি আবুল খায়ের। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোছাইনের আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী এম এ বারী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সিনহা হত্যার পর তাদের অবস্থান করা নীলিমা রিসোর্ট থেকে ২৯টি সামগ্রী জব্দ করে রামু থানা পুলিশ। কিন্তু এই ঘটনায় দুটি জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়। তবে দুটিতেই অমিল ছিল। তাই এর ব্যাখ্যা জানতে আদালত রামু থানার ওসি আবুল খায়েরকে তলব করেছিলেন।

গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকতের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে। পরে ৫ আগস্ট সিনহা হত্যার বিচার চেয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়।

তারা হলেন— টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দে র পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এদের মধ্যে শেষ দুজনের ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।

এ ছাড়া সিনহা নিহতের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী কক্সবাজারের বাহারছড়া এলাকার নূরুল আমিন, নাজিমুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত ১৮ আগস্ট এ মামলায় তিন এপিবিএন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রতিবেদন শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Top News
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com