1. forhad.one@gmail.com : Forhad Shikder : Forhad Shikder
  2. s.m.amanurrahman@gmail.com : pD97wRq9D9 :
হাইব্রিড তাড়াতে আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর - Top News
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

হাইব্রিড তাড়াতে আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০
  • ৫৮ সময়

দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে একের পর এক সংকটে পড়ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ঐতিহ্যে ভরা এই রাজনৈতিক দলটির সব ভালো কাজ ও অর্জনকে নিমিষেই শেষ করে দিচ্ছেন এই অনুপ্রবেশকারীরা।

যারা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং যাদের কারণে দেশ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তাদের খুঁজছে দলটি। রিজেন্টের মালিক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। সাহেদদের মতো আরো কোনো সাহেদ দলের অভ্যন্তরে লুকিয়ে আছে কি না তাও আওয়ামী লীগ খতিয়ে দেখছে বলে সূত্র জানায়।

দলের একাধিক নেতা জানান, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগে বিভিন্ন সময় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য অনুপ্রবেশকারীদের ঢল নেমেছিল। পরবর্তী সময়ে অনুপ্রবেশকারীদের কারণে দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। ফলে দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ দেয়া হয় অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করার জন্য। কিন্তু তখন এ নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও নিজস্ব টিমের তত্ত্বাবধানে দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলকে সুসংগঠিত ও ‘হাইব্রিড’ মুক্ত করতে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এরই অংশ হিসেবে সভাপতি দলের ভেতর শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। এসব অনুপ্রবেশকারীকে এখনই দলের পদ-পদবি থেকে বাদ দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশও দেন দলীয় সভাপতি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনোভাবেই দলে অনুপ্রবেশ না ঘটে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনার কারণে চলমান অভিযানে কিছুটা ভাটা পড়লেও অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন অপকর্ম থেমে থাকেনি। বরং করোনা মহামারীকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। করোনা-মুক্তির ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রি করেছেন অনেকেই।

আওয়ামী লীগের গত আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির ২৪ নং সদস্য ছিলেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান বিতর্কিত মো. সাহেদ করিম। তিনি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গায় করেছেন প্রতারণা। এর আগেও আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা প্রতারণার সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন বলে নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে অনেককে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

শুদ্ধি অভিযানে ক্যাসিনো-কাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করেছিল প্রশাসন। তখন যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান ও খালেদ মাহমুদ ভূইঞাকে বিচারের আওয়তায় আনা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন যুবলীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। এই কাণ্ডের রেশ কাটতে না-কাটতে আবার সমালোচনার ঝড় ওঠে পাপিয়া-কাণ্ডে।

মেঘমুক্ত আকাশে বিজলির মতো হঠাৎই আলোচনায় গর্জে ওঠা একটি নাম শামীমা নূর পাপিয়া। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে স্বল্প সময়ে তিনি হয়ে যান বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক। নানা কৌশলে তিনি বাগিয়ে নিতেন বড় বড় কাজ।

পাপিয়াকে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রদান এবং তার কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয়ের দায়ে নেতৃত্ব হারাতে বসেছেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ ছাড়তে হয় রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে। এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলকে কুয়েতে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাপুলকে রিমান্ডে নেয়া হয়। অবশেষে তাকে কারাগারেও পাঠায় কুয়েত সরকার। এসব কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এসব বিষয়েও ভালোভাবে সতর্ক ও নজরদারির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি হাইকমান্ডের ওপর নির্দেশ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ১৯৯১-৯৬ সালে খালেদা জিয়া সরকার ও ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই সময়কালে যারা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করতেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং যাদের কখনো আন্দোলনের মাঠে দেখা যায়নি কিংবা যারা সেদিন বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। সারা জীবন জেলেই থাকতে হবে।’ তারাই আজকে নিজেদের আওয়ামী লীগের বড় নেতা হিসেবে দাবি করছেন। বিভিন্ন মিডিয়ায় টকশোতে অংশ নিচ্ছেন। এই নেতারাই সুযোগ বুঝে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ করিয়ে তাদের দল ভারী করছেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরো বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি উপকমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবের ওপর তদন্ত করলেই সাহেদদের মতো প্রতারকদের সহজেই খুঁজে বের করা যাবে। যাদের অর্থের বিনিময়ে সংগঠনের সদস্য বানিয়েছিলেন। বর্তমানে উপ-কমিটি নেই। তবে কমিটির জন্য খসড়া কমিটি জমা দেয়া আছে। সেই খসড়া কমিটিগুলো আবার যাছাই-বাছাই করা হবে। তাদের মধ্যে সাহেদদের মতো কোনো রাঘব-বোয়াল পেলে সেই উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবকেও জবাব দিতে হবে। এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পেলে ভবিষ্যৎ রাজনীতি তার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। এজন্য সব উপ-কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও নজরে রাখা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, ‘সাহেদ আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন এটা শুনেছি। তবে তাকে পার্টি অফিসে কখনো দেখিনি। আসলে সে ছিল কি না তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যদি প্রমাণিত হয় তাহলে চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবকে শোকজ করা হতে পারে।’

‘অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট’ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘অপরাধীর দলীয় পরিচয় কিংবা ক্ষমতাবান হলেও ছাড় দেয়া হবে না। শুধু স্বাস্থ্য খাতেই নয়, যেকোনো খাতের অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতি রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারীরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দলকে বিতর্কিত সৃষ্টি করছে। আমাদের নীতি হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সাহেদদের মতো প্রতারকদের পৃষ্ঠপোষকদেরও খুঁজে বের করা হবে। তাদের চিহ্নিত করা হবে। এ ধরনের প্রতারকরা দলের নাম ভাঙিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এদের কারণে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরাও বিব্রত।’

প্রতিবেদন শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Top News
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com